
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া।
তিনি বলেন, ভোট চাইতে জামায়াতের কেউ যদি সাধারণ মানুষের বাসায় যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত। এতে করে তারা সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাবে না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত আব্দুস সামাদ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া নতুন ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় তরুণ সমাজকে সচেতন হতে হবে। অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ যেন ব্যর্থ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিছু গোষ্ঠী নির্বাচনের পরিবেশকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জামায়াত প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাপিয়া বলেন, অতীতে এই দলটি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ছায়ায় রাজনীতি করেছে। অথচ এখন তারা রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট আসনে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য জনগণের প্রত্যাশিত কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ফলে সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তন চায় বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে পাপিয়া উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়া জরুরি। তিনি বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদকে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তার পক্ষে জনসমর্থন কামনা করেন।
জনসভায় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভা ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যায়।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।