
শেরপুরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই মঞ্চে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং একজন রাজনৈতিক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শেরপুরে যে ধরনের সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। নির্বাচনকালীন আচরণবিধি অনুযায়ী সব রাজনৈতিক পক্ষের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। তবে ওই ঘটনায় সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিনিয়র সচিব আরও জানান, ঘটনার প্রেক্ষাপটে শ্রীবরদী উপজেলার ইউএনও এবং শ্রীবরদী থানার ওসিকে তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিচারাধীন তদন্তের ওপর নির্ভর করবে। এ লক্ষ্যে একটি জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার জন্য পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন ইসি সিনিয়র সচিব। তিনি জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির পর আদালতের নির্দেশে যদি কোনো ব্যক্তি প্রার্থিতা ফিরে পান, তাহলে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে তার নাম ও প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট প্রস্তুত ও বিতরণ সম্পন্ন করতে হয়।
এর আগে শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা রেজাউল করিম নিহত হন। এ ঘটনার পর দলটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেরপুরের ঘটনা আগামী নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।