
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হত্যা মামলার তিন আসামি জামিন ছাড়াই মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট এক ডেপুটি জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম নামে তিনজন বন্দি মুক্তি পান। তারা সবাই একটি হত্যা মামলার আসামি এবং তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার তারাটি এলাকায়। তবে মুক্তির সময় তাদের পক্ষে কোনো জামিন আদেশ কার্যকর ছিল না—এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি ‘ভুল মুক্তি’র ঘটনা। দাবি করা হচ্ছে, বন্দিদের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় একটি প্রডাকশন ওয়ারেন্টকে ভুলবশত জামিন আদেশ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এর ফলেই তিন আসামি কারাগার থেকে বের হয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে দায় নির্ধারণ করে ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের কারা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল না কি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তবে ঘটনাটি যে কারা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জানান, আসামিদের মুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সময়মতো পুলিশকে অবহিত করা হলে আসামিদের পুনরায় আটক করা তুলনামূলক সহজ হতো। বর্তমানে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একটি হত্যা মামলার আসামিরা এভাবে জামিন ছাড়াই মুক্তি পাওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া ও কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।