
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের জন্য একটি নতুন ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্মুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার করে ভোটাররা নিজেদের ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, অ্যাপটির মাধ্যমে ভোটাররা সহজেই জানতে পারবেন তারা কোন ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন, সেই কেন্দ্রের ঠিকানা কোথায় এবং ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ম্যাপে কীভাবে পৌঁছানো যাবে। অ্যাপটিতে ভোটকেন্দ্রের জিও লোকেশন, ছবি, দূরত্ব এবং গুগল ম্যাপের সহায়তাও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা সূত্রে জানা যায়, ‘Smart Election Management BD’ নামের এই অ্যাপটি ইতোমধ্যে গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাপটি ইন্সটল করার পর ভোটাররা জন্মতারিখ ও ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
অ্যাপটির মাধ্যমে শুধু ভোটকেন্দ্রের তথ্যই নয়, বরং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকা, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা, বিভিন্ন নির্বাচন-সংক্রান্ত ঘোষণা এবং ভোটের ফলাফল সম্পর্কিত তথ্যও পাওয়া যেতে পারে বলে বলা হচ্ছে। ফলে ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও নির্বাচন বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, অ্যাপটিতে প্রবেশের পর ব্যবহারকারী জানতে পারবেন বর্তমানে দেশের কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভোটার আইডি নম্বর অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভোটারের ভোটকেন্দ্রের নাম, কেন্দ্রের ঠিকানা, ভোট দেওয়ার সিরিয়াল নম্বরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখানো হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটারদের তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হলে ভোটের দিন বিভ্রান্তি কমতে পারে এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়তেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এ ধরনের অ্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তথ্য নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিয়েও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি অ্যাপ ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে। আগামী দিনে অ্যাপটিতে আরও নতুন ফিচার যুক্ত হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।