মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃ/তের সংখ্যা ছাড়াল পাঁচ হাজার বিচারাধীন মামলা কমানোর নতুন পরিকল্পনা জানাল আইন মন্ত্রণালয় সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র সচিব সিয়ামের দিল্লি হাইকমিশনার নিয়োগে জোর আলোচনা চলছে উন্নয়ন অধিকার নাকি দয়া, প্রশ্ন তুললেন ডা. মাহমুদা মিতু মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দাবিতে নতুন বক্তব্য দিলেন নাহিদ ইসলাম সংবিধান ও গণভোট প্রসঙ্গে বক্তব্য দিলেন সারজিস আলম অটোপাস নয়, শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় বিজিবি, দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন নির্দেশ আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

সড়কে অর্থ আদায় নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন তুললেন তাসনিম জারা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সড়কে চাঁদা আদায় প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি এ প্রক্রিয়াকে “সমঝোতা” বা “অলিখিত বিধি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে চিকিৎসক ও আলোচক ডা. তাসনিম জারা তাঁর অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ডা. তাসনিম জারা তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, যেটিকে “সমঝোতা” বলা হচ্ছে, তা বাস্তবে অনেক চালকের জন্য বাধ্যতামূলক একটি অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের একটি নির্দিষ্ট সংগঠন বা পক্ষকে অর্থ দিতে হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। একে “সমঝোতা” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলে তা একটি অনিয়মকে পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অর্থ আদায়ের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। বাসভাড়া বৃদ্ধি কিংবা পণ্য পরিবহনের অতিরিক্ত খরচের পেছনে এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক লেনদেন ভূমিকা রাখছে—এমন অভিযোগ বিভিন্ন সময় উঠেছে। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলে তার প্রভাব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও পড়ে বলে তিনি দাবি করেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও যাত্রীদেরই বাড়তি অর্থ গুনতে হয়।

মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—“যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে”—এই বক্তব্যের অর্থ কী? এর মাধ্যমে কি রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে, নাকি এটি কেবল সাধারণ পর্যবেক্ষণ—এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর প্রতিক্রিয়ায় প্রস্তাবও রাখা হয়। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা যেন স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সংগ্রহ করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন, বা বার্ষিক নিবন্ধন ফি-র সঙ্গে নির্ধারিত অর্থ যুক্ত করার মতো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি। এতে করে অনিয়ম ও অভিযোগের সুযোগ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সড়ক থেকে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট হওয়া উচিত। এই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং কার কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে—তা প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাধারণ চালক-শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্নমতও প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা করছেন অনেকে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews