
জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত দিনেও জমা দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফলে মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা সেদিন প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি বলে আদালত সূত্রে অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি অভিযোগপত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে নারাজি আবেদন করেন বলে জানা যায়। পরে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।
মামলার অগ্রগতির অংশ হিসেবে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রিমান্ড শেষে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন। পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর একই রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হিসেবে দায়ের হলেও পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি এবং সর্বশেষ আদালতের নির্দেশে সিআইডির কাছে ন্যস্ত হয়।
ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। তবে অভিযুক্তদের কয়েকজন পলাতক আছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে মামলার প্রতিবেদন পুনরায় পেছানোয় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে সিআইডি প্রতিবেদন জমা দেয় কিনা, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।