বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমপি নজরুলের ভাইরাল ভিডিও এআই নয়, জানাল রিউমর স্ক্যানার লালমনিরহাটে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগে ব্যাখ্যা দিলেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল জামায়াত এমপির দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কে নতুন ভিডিও বার্তা চিকিৎসা নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকারনাইন সায়েরের পোস্টে আলোচিত জামায়াতের চিঠি, বাড়ছে প্রশ্ন ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃ/তের সংখ্যা ছাড়াল পাঁচ হাজার বিচারাধীন মামলা কমানোর নতুন পরিকল্পনা জানাল আইন মন্ত্রণালয় সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র সচিব সিয়ামের দিল্লি হাইকমিশনার নিয়োগে জোর আলোচনা চলছে উন্নয়ন অধিকার নাকি দয়া, প্রশ্ন তুললেন ডা. মাহমুদা মিতু

ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার: গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ—এমন তথ্য জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, অজ্ঞাতনামা এক নারীর ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়, যা পরে স্থানীয় একজন ব্যক্তি তার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করেন।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আজিজুল হক (৩৫)। তাকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আটক করা হয় এবং পরদিন শুক্রবার তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পরই তাকে আটক করা হয়েছে। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, মামলা হওয়ার আগেই পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরে দায়ের হওয়া মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ‘তারেক রহমান ব্লগ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মূল পোস্টটি করা হয়েছিল। সেই পোস্টটি আজিজুল হকের অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। আজিজুলের স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি নিজে পোস্টটি শেয়ার করেননি। তার চাচাতো ভাইয়ের ভাষ্যমতে, কোনো এক ব্যক্তি তার ফোন কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করেছিলেন, তখনই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

এদিকে মামলার বাদী হিসেবে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মীর নাম জানা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, শুধু একটি নয়, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি এ ধরনের একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা করেই মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গেছে। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ থাকা প্রয়োজন ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা সীমাহীন নয়—এমন মন্তব্য শোনা গেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন মতপ্রকাশের মধ্যে পড়ে না।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব ছিল কি না—এমন প্রশ্নে পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিজস্ব প্রক্রিয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে স্থানীয় কিছু সূত্রের দাবি, সরাসরি চাপ না থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

সার্বিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews