
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন স্থানে স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে টিসিবি পণ্য। তবে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রতি কেজি পণ্যের ওজন কম দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, প্রতি কেজিতে প্রায় ১০০ গ্রাম, দুই কেজি পণ্যে ২০০ গ্রাম, এবং আধা কেজি পণ্যে প্রায় ৫০ গ্রাম কম দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে রেসকোর্স এলাকায় ফারুক স্টোরের অধীনে টিসিবি পণ্য বিতরণের ট্রাকে এই অনিয়ম চোখে পড়ে। ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে ওজন মাপা হলেও, প্রতিটি পণ্য কম দেওয়া হয়েছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ।
টিসিবির এই পণ্যের মধ্যে রয়েছে চিনি ১ কেজি, মশুর ডাল ২ কেজি, বুট ১ কেজি, তেল ২ কেজি এবং খেজুর ৫০০ গ্রাম। অভিযোগ পাওয়ার পর কয়েকজন ক্রেতা তাদের পণ্য পরিমাপ করে দেখেন, এবং সবাইকে কম দেওয়া হয়েছে। টিসিবির ডিলার পারভিন আক্তার জানান, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেওয়া হয়নি। ওজন মাপার সময় হয়তো ভুল হয়েছে। আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছি যাতে আর কোনো ত্রুটি না হয়।’
কুমিল্লায় প্রতিদিন পাঁচটি ট্রাকে টিসিবি পণ্য বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ পরিবারের জন্য পণ্য বরাদ্দ থাকে। ফলে মোট ২ হাজার পরিবার প্রতিদিন পণ্য পায়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন এই বিতরণ চলে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি কেজি থেকে ১০০ গ্রাম কম দেওয়ার কারণে, প্রতিজনের হাতে মোট ৬০০ গ্রাম কম পণ্য পৌঁছাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ২৪ হাজার টাকার সমমূল্যের পণ্য কম দেওয়া হচ্ছে। এমনভাবে পাঁচটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার পণ্য কম বিতরণ হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পণ্য নিতে আসা রোকসানা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সস্তায় কিছু পণ্য পাই, কিন্তু ওজন কম দেওয়া হয়। পরিচিত মানুষকে আগে দেওয়া হচ্ছে।’ অন্যদিকে, বাগিচাগাঁও এলাকার গৃহবধূ তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘চেহারা দেখে মালামাল দেওয়া হচ্ছে।’
রেসকোর্স এলাকার ব্যবসায়ী হানিফ জানান, ‘আমরা কয়েকজনের পণ্য পরিমাপ করেছি, দেখা গেছে প্রতি কেজি ১০০ গ্রাম এবং দুই কেজি ডালে ২০০ গ্রাম কম দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারুক স্টোরের স্বত্বাধিকারীকে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। সহকারী পরিচালক কাউছার মিয়া বলেন, ‘পণ্য কম দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সঠিক ওজন না থাকার তথ্য পাই। তাই জরিমানা করা হয়েছে।’
কুমিল্লা টিসিবির উপপরিচালক মামুনুর রশীদ গাজী জানান, ‘প্রতিদিন পাঁচটি ট্রাক থেকে ২ হাজার মানুষকে পণ্য বিতরণ করা হয়। অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এভাবে কুমিল্লায় টিসিবি পণ্যে ওজন কম দেওয়ার ঘটনা ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি করেছে। স্থানীয় ভোক্তাদের আশা, আগামী দিনে সঠিক ওজনের পণ্য বিতরণ নিশ্চিত করা হবে এবং অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা হবে।