
২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার দলের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শফিকুর রহমানের সঙ্গে থাকবেন ১১ দলীয় ঐক্যের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি আজিমপুর কবরস্থানে যাবেন। সেখানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেবেন।
দলের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, “২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে দেশের সব স্তরের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই আমরা এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছি।” শহীদ মিনার এলাকায় নিরাপত্তা ও পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শহীদ দিবসে শফিকুর রহমানের এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে শহীদ মিনার এলাকার প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আজিমপুর কবরস্থানে মোনাজাতের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, “বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি শহীদ দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশপ্রেম ও ভাষার মর্যাদা সব রাজনৈতিক দলে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে, দলের কর্মকর্তা ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মনে করছেন, শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানগুলো শুধু রাষ্ট্রীয় আবহ তৈরি করছে না, বরং সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
শহীদ মিনার ও কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শফিকুর রহমান ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণ একতা, সংহতি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
এছাড়াও, দলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, “শহীদ দিবসের প্রেক্ষাপটে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এটি শুধু এক শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়, বরং আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকারও।”
শফিকুর রহমানের এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংহতি ও শৃঙ্খলা প্রদর্শনের একটি উদাহরণ হিসেবে ধরা হবে।