
দেশের প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই যাতে উপকারভোগীরা এই সুবিধা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। বিকেলে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে তিনি চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন এমন দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিতকরণে ইতোমধ্যে প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে যোগ্য পরিবারগুলোর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় খালগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান বলে প্রচার হয়েছে। পাশাপাশি রোজাদারদের কথা বিবেচনায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তার ভাষ্যমতে, ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
উত্তরাঞ্চলের বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে। তবে তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে কত দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পায়।