
নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি সামনে আনেন ডা. শফিকুর রহমান। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা ওই পোস্টে তিনি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারের অবস্থান নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
পোস্টে তিনি প্রশ্ন রাখেন—নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে কি জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে? একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, যদি এমন প্রবণতা চলতে থাকে তবে দুর্নীতির টুটি কীভাবে চেপে ধরা হবে। তার ভাষায়, “ব্যাকরণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সূচনাতেই বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে?”—এমন মন্তব্য ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও লেখেন, “প্রিয় জনগণ, চাঁদার কালো থাবা থেকে বাঁচতে হলে লড়তে হবে। এ লড়াইয়ে আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি, ইনশাআল্লাহ।” তার এই আহ্বানকে অনেকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, চাঁদাবাজির মতো স্পর্শকাতর ইস্যু সামনে এনে তিনি সরকারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছেন। আবার অন্য একটি মহলের মতে, এটি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জনমত গঠনের প্রচেষ্টা হতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম আলোচিত সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এমন প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমানের পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তবে অভিযোগ বা সমালোচনার বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবস্থান জানা জরুরি বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন। স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলতেই পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।