
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বিরোধী দলের ৭৯ জন সংসদ সদস্য মিলে সরকারি দলের ২১২ জন সংসদ সদস্যকে “তীরের মতো সোজা” রাখার চেষ্টা করবেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরতলীর ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খুতবার আগে এই মন্তব্য করেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, চরমোনাইয়ের একজনসহ আমরা ৭৮ জন, আর শেরপুরের একজন আরও আছেন, এই ৭৯ জন, এবং বাকি রয়েছে ২১২ জন সংসদ সদস্য। তিনি আরও বলেন, “মসজিদের মধ্যে বসে বলছি, আমরা ১০০% চেষ্টা চালাব এই ৭৯ জন মিলে তাদের সোজা রাখতে। যদি কেউ অন্যদিকে গেলে, আমরা চেপে ধরব। সেটা সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক।”
এই মন্তব্যে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার দলের নীতি ও ন্যায়বিচার সবসময় নিরপেক্ষ। “আমাদের কাছে দল-বেদল, ধর্ম-অধর্মের ভেদ নেই। মানুষ হলে তার প্রতি আমরা আমাদের নিজস্ব দল বা অন্য দলের কার্যক্রম বিচার করব। যদি আমাদের দলের কেউ চাঁদাবাজি করে, সেটা হোক। কিন্তু অন্য দলের কেউ করলে সেটা আমরা ধরব। এটা ন্যায়বিচার,” তিনি উল্লেখ করেন।
মুফতি আমির হামজা আরও বলেন, তিনি এমপি হিসেবে ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোট পেয়েছেন, কিন্তু মোট ভোটদাতা তার উপর আস্থা রেখেছেন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। “আমি সব ভোটারকে আমার নিজের ভাই-বোনের মতো মনে করি। ইনশাআল্লাহ আগামী ৫ বছরে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব,” তিনি বলেন।
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে আনুষ্ঠানিকভাবে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন মুফতি আমির হামজা। তিনি নিজে ও দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালের চত্বর পরিষ্কার করার কাজ করেন।
উল্লেখ্য, এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিছুজন বলছেন, এমন মন্তব্য সংসদীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। আবার অনেকে এটিকে প্রাথমিক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী উত্তাপ এবং শক্তি প্রদর্শনের অংশ হতে পারে।
মুফতি আমির হামজার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। রাজনৈতিক সমালোচকরা বলছেন, বিষয়টি নজরকাড়া হলেও বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব তা সময়ই বলে দেবে।