
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে তারাবির নামাজ চলাকালে এক ছাত্রনেতাকে মসজিদের ভেতর থেকে টেনে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন জিহাদ (২০) নামে এক তরুণ। তিনি বাউরিয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে মসজিদের আঙিনায় তাকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার সময় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা সশস্ত্র থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি বলে দাবি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঘটনাস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয় বলে শোনা গেছে।
আহত জিহাদের সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। দলীয় মতবিরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মারধরের পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের প্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে মসজিদের মতো ধর্মীয় স্থানে এমন সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে বিস্তারিত জানা যাবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ধর্মীয় স্থানে সহিংসতা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।