
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাটে আসেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি জেলা সদরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং দলীয় নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বলে জানা গেছে। তবে তার সফরকে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালমনিরহাট সার্কিট হাউসে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও এক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব এবং শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক অধ্যক্ষ সারোয়ার আলম। তাদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মন্তব্য করলেও, আবার অনেকে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার রাজনীতিতে নানা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের দাবি, কিছু নেতা সময়ের সঙ্গে অবস্থান বদলাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে সক্রিয় হচ্ছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন মহলে তৎপরতা বাড়ছে। এক সূত্রের ভাষ্য, “যারা দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন না, তারাও এখন বিভিন্নভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।” এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, একজন মন্ত্রী রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি। তাকে শুভেচ্ছা জানানো নাগরিক সৌজন্যের অংশ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তাদের ভাষায়, “অভিযোগ থাকলে সেটি যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।”
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ ও সমীকরণ তৈরির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে একটি ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। তবে ঘটনাটি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ কিংবা এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হবে, তা সময়ই বলে দেবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।