
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের একটি গাড়ির ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষুব্ধ জনতা বহরে থাকা একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। নিহত শিশুর নাম মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ (৭)। তিনি বদরখালী আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকার তেচ্ছিপাড়া গ্রামের প্রবাসী আমানুল ইসলামের ছেলে। খালেদ স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের গাড়িবহরের পেছনে থাকা একটি গাড়ি শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি তারেক রহমান দাবি করেন, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকা কুতুবদিয়া সফর শেষে ফিরছিলেন। বদরখালী এলাকায় প্রধান সড়ক অতিক্রমের সময় শিশুটি হঠাৎ গাড়ির সামনে চলে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরপরই আহত শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু লোকজন উত্তেজিত হয়ে বহরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এমপির গাড়িবহরে থাকা একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, জনবহুল এলাকায় গাড়িবহর চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারসংলগ্ন সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে নিহত শিশুর পরিবার শোকাহত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।