
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে যে, তার ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। খবরটি প্রকাশের পর মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ১২টা ৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি নিজ উদ্যোগেই তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আগেই আয় ও সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছিল।
বলেন, “আগামীকাল আমি নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করবো। পদত্যাগের আগেই আয়-সম্পদের হিসাব যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দিয়ে এসেছি।” তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ এটিকে স্বচ্ছতার বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
এর আগে অভিযোগ উঠেছে যে, সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বিএফআইইউ দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে তার ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য চায়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেনের বিবরণ জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্টতার বিস্তারিত তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবেও আলোচনায় আসেন তিনি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, ঢাকা–১০ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেননি বলে জানান। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
ব্যাংক হিসাব তলবের এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।