
ডা. মাহমুদা মিতু, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ডেপুটি চিফ অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে সাম্প্রতিক অসুস্থতা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, টানা প্রায় আট দিন গুরুতর শারীরিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। নানা জটিলতায় শরীরে মারাত্মক ধকল গেছে বলেও জানান। চিকিৎসার অংশ হিসেবে ড্রেইন টিউব ও একাধিক ক্যানুলা ব্যবহার করতে হয়েছে এবং পরে সেগুলো অপসারণের পর নিজেকে অনেকটা স্বস্তিতে অনুভব করেন বলে দাবি করেন। এমনকি হাতে ক্যানুলার জায়গা না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবন সম্পর্কে নতুন উপলব্ধির কথা তুলে ধরে আলহামদুলিল্লাহ জানিয়ে বর্তমানে আগের তুলনায় ভালো আছেন বলে জানান তিনি।
অসুস্থতা কাটিয়ে উঠেই তিনি উন্নয়ন সংক্রান্ত কিছু অগ্রগতির তথ্য শেয়ার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও আশ্রমের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে গত নভেম্বর মাসে আবেদন করা হয়েছিল। সেটি ডিসেম্বরেই অনুমোদিত হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে নির্বাচনসংক্রান্ত কারণে বরাদ্দ বিতরণ বিলম্বিত হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন। বর্তমানে বরাদ্দ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. মিতুর দাবি, প্রতি মসজিদ ও মন্দিরে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রস্তাবিত তালিকার সব প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের মনোবল ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
এছাড়া কাঠালিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নে ১১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগেই তার প্রচেষ্টায় এ বরাদ্দ অনুমোদন পায় এবং শিগগির কাজ শুরু হতে পারে। তবে কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, দলমত নির্বিশেষে অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়নই তার মূল লক্ষ্য। গত কয়েক দশকে ঝালকাঠি-১ আসনে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে অনেক এলাকায় এখনো রাস্তাঘাটের এমন অবস্থা যে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করতে পারে না—এমন মন্তব্যও করেন।
ক্ষমতার প্রতি ব্যক্তিগত লোভ নেই দাবি করে তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও এলাকার জন্য কাজ করার ইচ্ছাই তাকে অনুপ্রাণিত করে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। এএইচ তুহিন সিকদারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তবে উল্লিখিত বিষয়গুলো তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।