
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি চুক্তি নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। দলটির এই মন্তব্য শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে করা হয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কিছু চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এসব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে, সংসদ না থাকার কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের এই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। অতএব, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং এখানে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ধোঁয়াশা তৈরি করার সুযোগ নেই।’
এর আগে, বুধবার (৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগে আলোচনার মাধ্যমে সম্মতি নিয়েছে। সুতরাং এটা কোনো অন্ধকার চুক্তি নয়।’
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে এমন সময় যখন নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব রাজনৈতিক দলের মতামত অন্তর্ভুক্ত হোক, যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। কিন্তু আমাদের দলকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে অবহিত করা হয়নি। তাই আমরা পুনরায় বলছি, বিষয়টি নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং কোন বিভ্রান্তি নয়।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ চুক্তি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বিদেশি চুক্তি নিয়ে দলের সঙ্গে আলোচনা না করা এবং পরে অবস্থান স্পষ্ট করা ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকলে জাতীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই ফেসবুক পোস্ট সামাজিক মাধ্যমেও তুমুল আলোচিত হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, ‘অভিযোগ উঠেছে’ যে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, ‘বলেন, এটা স্বচ্ছ হওয়া উচিত ছিল।’
শুধু তাই নয়, এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংলাপ ও চুক্তি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।