দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনা: জীবিত উদ্ধার ১১, মিলল ৪ মরদেহ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এবং চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, “সৌহার্দ্য পরিবহন” নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরপরই কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এ পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় নৌ পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে নিহত ও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী জাহাজ “হামজা” ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। তবে উদ্ধারকারী জাহাজ পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় অনেকেই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, উদ্ধারকারী ফেরি ‘হামজা’সহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান চলছে।
এদিকে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আসা ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস একযোগে কাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।