
দেশজুড়ে আলোচিত নবীন ফ্যাশনের শোরুম বন্ধ ও মালিকের দেশত্যাগের ঘোষণার পর নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আবারও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আংশিকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নবীন ফ্যাশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মগবাজার শাখা ছাড়া দেশের অন্যান্য শোরুম পুনরায় চালু করা হবে। পোস্টে দাবি করা হয়, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ অফারও দেওয়া হবে এবং উৎসবের আমেজ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ঈদের আগের দিন মগবাজার শোরুম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এবারের ঈদ আনন্দ ১৫ দিনব্যাপী উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর উদ্যোগে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদেশ থেকে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুল হাসান নবীন সংবাদ সম্মেলনে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, কম দামে পণ্য বিক্রির কারণে একটি সিন্ডিকেটের চাপে পড়তে হয়েছে তাকে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এনামুল হাসান নবীন বলেন, তিনি গ্রাহকদের সাশ্রয়ী দামে পণ্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর কারণে যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে আবার দেশে ফিরে আসার আশা রাখেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় রাজধানীর মগবাজারে নবীন ফ্যাশনের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আশপাশের ব্যবসায়ীরা কম দামে পণ্য বিক্রির প্রতিবাদে এ পদক্ষেপ নেন। ওই সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। অনেকেই ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার নামে এমন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক ঘোষণার ফলে নবীন ফ্যাশনের কার্যক্রম কতটা স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে গ্রাহকরা নতুন করে শোরুম চালুর খবরকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।