
শেরপুর শহরের একটি আবাসিক বহুতল ভবনের নিচতলায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের একটি অভিযানে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি শহরের গোপালবাড়ী এলাকায় ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক ভবনের নিচে ট্যাংক স্থাপন করে সেখানে ডিজেল মজুদ করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়াই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আগে থেকেই আলোচনায় থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসেনি বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ভবনের নিচতলায় স্থাপিত ট্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিয়ম না মেনে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে মজুদকৃত ডিজেল ও স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের দাহ্য পদার্থ মজুদ করাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ফলে ভবনের বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। তবে প্রশাসনের অভিযানের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে তারা মনে করছেন। একইসঙ্গে তারা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরপুর শহরে আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ মজুদের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।