মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিলের ঘোষণা জামায়াতের কর্মসূচি লালমনিরহাটের কায়েম-রুদ্রেশ্বর সড়কে ধস, আতঙ্কে স্থানীয়রা এমপি হওয়ার পর বদলে গেছে জীবন, আবেগঘন মন্তব্য ডা. মাহমুদা মিতুর দায়িত্ব নিতে কেন প্রথমে না বলেছিলেন ড. ইউনূস রাতের নীরবতায় কেঁপে উঠলো দেশ, অনুভূত হলো ভূমিকম্প চিকিৎসা ব্যয়ে ৮২ লাখ টাকা প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা গুলশান থেকে সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক বেনজীরকে দেশে ফেরাতে অপেক্ষায় বাংলাদেশ, আমিরাতের সিদ্ধান্ত এখনো বাকি চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে আজ রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী জুয়া ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিমান্ড শেষে আদালতে অস্বীকার, ডিএনএ পরীক্ষার মুখোমুখি শিক্ষক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১০ মে) তিন দিনের রিমান্ড শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগরকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে। পরে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম এ নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ অক্টোবর বিকেলে মাদ্রাসায় ক্লাস শেষ হওয়ার পর ওই শিশুকে মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি মসজিদ পরিষ্কার করার কথা বলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিশুটি চিৎকার করলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অভিযুক্ত শিক্ষক অস্বীকার করেছেন বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে চিকিৎসক শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকসহ আরও একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান। পরে গত ৫ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। এরপর তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ বলে আইনজীবীরা মত দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৫-২০২৬, ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সাইটের সমস্ত লেখা, ছবি ও কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতায়। অনুমতি ছাড়া কপি, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। স্বত্বাধিকার দাবি থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।

Theme Customized By BreakingNews