
কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে উদ্ধারের পর অপহরণের অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানানো হলে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেন, তাকে গাড়িযোগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ভ্রূণ নষ্ট করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
জানা গেছে, ওই নারী বিয়ের দাবি জানালে বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরই মধ্যে জিসান আত্মগোপনে যান বলে পুলিশ দাবি করেছে। পরে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবারের একজন সদস্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জিসানকে উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিকে কেউ অপহরণ করেছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একজন নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতা এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে মামলার অভিযোগ ও পুলিশের দাবিগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।