
খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র এবং প্রকাশিত উপকারভোগীর তালিকা ঘিরে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত সহায়তার অর্থ প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পরিবর্তে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন, আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের অনুকূলে ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বরাদ্দের একটি অংশ কয়রা উপজেলায় উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তালিকায় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস), কয়েকজন আত্মীয় এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত কিছু রাজনৈতিক কর্মীর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত কিছু ব্যক্তি আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও সহায়তা পেয়েছেন। আবার প্রকৃত অসচ্ছল অনেক মানুষ এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। কয়েকজন উপকারভোগী জানিয়েছেন, তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হলেও অন্য কিছু ব্যক্তিকে তুলনামূলক বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে তারা পরে জানতে পারেন। বিষয়টিকে কেউ কেউ বৈষম্যমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তালিকায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যবসা কিংবা কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অবস্থানে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ব্যক্তি দরিদ্র ও সহায়তাপ্রার্থী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু দলীয় কর্মী তালিকায় থাকলেও তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতারা অবশ্য অভিযোগ করেছেন, সরকারি সহায়তার অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তাদের দাবি, দলীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সুশাসন নিয়ে কাজ করা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে না পারলে সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো জানা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।