
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশে হাম রোগে ৩০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় জনস্বাস্থ্য সংকটের পরও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের বিষয়টি কেন বিবেচনায় আনেননি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। এ সময় তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়েও মন্তব্য করেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটি বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বৃহত্তর স্বাস্থ্য সংকটের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায়বদ্ধতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটিতে শত শত শয্যার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনামূল্যের সেবার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম রোগে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একই ধরনের জবাবদিহিতা দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বাজেটের প্রকৃত সফলতা সংসদের ভেতরের প্রশংসা বা আলোচনায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বাজেট নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হলেও সাধারণ মানুষ বাজারে গিয়ে সেই সুফল অনুভব করতে পারছেন না বলে নানা মহলে আলোচনা রয়েছে।
তিনি জানান, বাজেট ঘোষণার আগে নিজ এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক চাপের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ এবং অনেক জনপ্রতিনিধির মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না বলেও অভিযোগ করেন।
বাজেট উপস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে ইনফোগ্রাফিক, ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড এবং সহজবোধ্য তথ্যচিত্রের মাধ্যমে বাজেট তুলে ধরা হয়। তবে দেশে এখনো সেই ধরনের আধুনিক উপস্থাপনা পর্যাপ্তভাবে চালু হয়নি বলে তার মন্তব্য।
শিক্ষাখাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবতায় অনেক শিক্ষক সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো, পায়রা বন্দর উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নৌপথ সংস্কার এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।