
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
মোবাইল ফোন চার্জ শেষ হওয়ার পর অনেকেই চার্জারটি সকেটে লাগানো অবস্থাতেই রেখে দেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে সুইচ বন্ধ করতেও ভুলে যান। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ফোন সংযুক্ত না থাকলে চার্জার আর কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সকেটে লাগানো অবস্থায় চার্জার কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেই থাকে, যদিও সেই পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, চার্জারের সঙ্গে কোনো মোবাইল বা অন্য ডিভাইস সংযুক্ত না থাকলেও এটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। বরং চার্জারটি স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থেকে বিদ্যুতের একটি ক্ষুদ্র প্রবাহ গ্রহণ করে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়াকে স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার বলা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, ডিভাইস সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন চার্জিং দ্রুত শুরু করা যায়।
জানা গেছে, একটি সাধারণ মোবাইল চার্জার স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় ঘণ্টায় আনুমানিক ০.১ থেকে ০.৫ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। এক দিনের হিসাবে এই ব্যবহার খুব বেশি না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একইভাবে চার্জার সকেটে লাগানো থাকলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চার্জারের কারণে বিদ্যুৎ বিল খুব বেশি না বাড়লেও একাধিক চার্জার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র একইভাবে চালু থাকলে তার সম্মিলিত প্রভাব দেখা যেতে পারে।
এ ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহারকে অনেক সময় ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বা ‘ফ্যান্টম লোড’ বলেও উল্লেখ করা হয়। কারণ যন্ত্রটি দৃশ্যত কোনো কাজ না করলেও অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে থাকে। ফলে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না।
প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন সূত্রে আরও বলা হয়েছে, শুধু মোবাইল চার্জার নয়; টেলিভিশন, ডেস্কটপ কম্পিউটার, গেমিং কনসোল, মাইক্রোওয়েভ ওভেনসহ আরও অনেক ইলেকট্রনিক যন্ত্র স্ট্যান্ডবাই মোডে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এসব যন্ত্র দীর্ঘ সময় প্লাগ-ইন অবস্থায় থাকলে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
কানাডার সরকারি একটি হিসাবের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সাধারণ পরিবারের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের কারণে ব্যয় হতে পারে। যদিও এই হার পরিবারভেদে এবং ব্যবহৃত যন্ত্রের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রয়োজন শেষ হলে চার্জার সকেট থেকে খুলে রাখা অথবা অন্তত সুইচ বন্ধ করে দেওয়া ভালো অভ্যাস। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাও কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে বজ্রপাত, বিদ্যুতের ওঠানামা বা দীর্ঘ সময় বাসার বাইরে থাকলে চার্জার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র প্লাগ থেকে খুলে রাখা আরও নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ছোট ছোট সচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই চার্জিং শেষ হওয়ার পর চার্জারটি সকেটে ফেলে না রেখে খুলে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নিরাপদ ব্যবহারের জন্য কার্যকর একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
© ২০২৫-২০২৬, ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সাইটের সমস্ত লেখা, ছবি ও কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতায়। অনুমতি ছাড়া কপি, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। স্বত্বাধিকার দাবি থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।