
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৭ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। আগুনের তীব্রতায় কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকদের অনেকে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর সৌদি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আগুনের ভয়াবহতায় মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে। এ কারণে নিহতদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কয়েকজন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার কয়েকজন শ্রমিক রয়েছেন। নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে ১০ জনের মৃত্যুর খবর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন বাসিন্দার মৃত্যুর কথাও জানা গেছে।
নওগাঁর নিহতদের মধ্যে কালিকাপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে কলি, লুৎফর, জান্ডার, রুবেল, সাগর, মজিদুল, শুভ, সুমন, জালাল ও মো. ফরিদ শেখের নাম পাওয়া গেছে। তবে তাদের সবার পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রয়োজন বলে জানা গেছে।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নিহতদের মধ্যে শামীম হোসেন, সাব্বির হোসেন ও রবিউল আউয়ালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এক পর্যায়ের তথ্যে ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে মোট নিহতের সংখ্যা ১৭ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান থাকায় সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দুর্ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো এসব বাংলাদেশি শ্রমিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক পরিবার এখনো প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতদের পরিচয়, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।