
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি এটিকে ‘দূরদর্শী ও প্রজ্ঞার পরিচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী যুব সংহতির ঢাকা উত্তরের সংগঠকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সাইফুল হক এসব কথা বলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাইফুল হকের বক্তব্য অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের গুরুত্ব, সম্মান ও সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য মির্জা ফখরুলকে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের আগে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও আলোচনা ও পরামর্শ করা হলে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব বহন করত বলেও মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আরও গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারত।
সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করতে যুব সমাজকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান সাইফুল হক। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান, অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
মতবিনিময় সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বিপ্লবী যুব সংহতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। আগামী ২৮ আগস্ট বিপ্লবী যুব সংহতির ঢাকা উত্তরের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই প্রতিনিধি সভা সফল করতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভা শুরুর আগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংগঠক শিবু মোহান্তের অকালমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। তার স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।