
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বর্তমানে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে পা অবশ হয়ে যাওয়ার কারণে তার স্বাভাবিক হাঁটাচলায় বেশ সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। তবে শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও আপাতত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানান। তিনি বলেন, পা অবশ হয়ে যাওয়ায় হাঁটাচলা করতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারছেন বলেও জানা গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিজেকে বেশ অসুস্থ মনে করছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য নিয়মিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এর চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বাসায় অবস্থান করার সময় কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকেও পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে সিএমএইচে যেতে হয় বলেও জানা গেছে। বঙ্গভবন ছাড়ার পর এখন পর্যন্ত তিনি একবার সিএমএইচে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তার বক্তব্য থেকে জানা যায়।
বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন মনে করলে এবং বিদেশে চিকিৎসার পরামর্শ দিলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপরই বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। একই সময়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।
সাবেক রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তার নিজের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পরামর্শই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।