
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে দাফনের দুই দিন পর কবরের পাশে গিয়ে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক করে পুনরায় জীবিত করার কোনো স্বীকৃত পদ্ধতি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
জানা গেছে, সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকার হাসনা বেগম (৫৮) নামে ওই নারী গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে।
এরপর টাঙ্গাইলের চতলবাইদ এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাপের কামড়ের খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কৈলানপুর এলাকা থেকে গাজী মিয়া নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ওঝা হিসেবে পরিচয় দেন, সেখানে যান।
অভিযোগ রয়েছে, দাফনের দুই দিন পর ওই ব্যক্তি কবরের এক পাশে সামান্য মাটি সরিয়ে সুরঙ্গের মতো জায়গা তৈরি করেন। এরপর সেখানে গন্ধ শুঁকে তিনি মরদেহে পচন ধরেনি বলে দাবি করেন। এমনকি তিনি ‘তেলের গন্ধ’ পাওয়ার কথাও বলেছেন বলে জানা গেছে। তার এই দাবিকে ঘিরে কয়েকজন স্থানীয় মানুষও কবরের কাছে ভিড় করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ওঝা মৃত নারীর পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে মরদেহে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাকে জীবিত করা সম্ভব হতে পারে। তিনি পরে আবার কবরের পাশে আসার কথাও জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
মৃত নারীর মেয়ে খালেদা বেগমের দাবি, মাকে আবার জীবিত পাওয়ার আশায় তিনি কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। তবে পরে ওই ব্যক্তি ফোন করে জানান, ধ্যানে বসে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তার মা আর বেঁচে নেই। এতে পরিবারের সেই আশা ভেঙে যায় বলে জানান তিনি।
এদিকে, কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক ও গন্ধ শোঁকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, চিকিৎসকের মাধ্যমে মৃত ঘোষণা করা একজন মানুষকে কবর দেওয়ার পর ঝাড়ফুঁক করে জীবিত করার দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বিষয়টিকে অকল্পনীয় ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সাপে কাটার পর কোনো ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কবর দেওয়ার পর ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে সাপের কামড়ের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ওঝার দাবিগুলো স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই কবর খুঁড়ে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার দাবি বা ঝাড়ফুঁকের কার্যকারিতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ অনুসরণ করাই নিরাপদ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।