
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার ৮৫ বছর পূর্ণ করেছে। ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট অবিভক্ত ভারতে ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভারত ভাগের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলটি নানা সময় নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক বিরোধ ও সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে বলে দলটির নেতারা দাবি করেছেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব পাকিস্তানে সংগঠনটির কার্যক্রম আলাদাভাবে পরিচালিত হতে থাকে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামে দলটি আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে বলে তিনি জানান। পরে ২০০৮ সালে দলের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাখা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
দলটির ইতিহাস নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। স্বাধীনতার পর দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায় কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
দলের নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করে বলেন, বিগত সময়ে দলটিকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, দলের অনেক নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং শীর্ষ নেতাদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড নিয়েও দলটির আপত্তি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতকে আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তারা মনে করেন। তবে তার দাবি, সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।
আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের ভাষ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়। এ লক্ষ্যে দলটি সাংগঠনিকভাবে নিজেদের আরও শক্তিশালী করার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
দলটির নেতারা বলছেন, অতীতের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে নেতারা জানিয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দলটির নিবন্ধনের বিষয়টিও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে। ফলে এ মুহূর্তে দলটির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে—এমন কোনো দাবি করা হচ্ছে না। রাজনৈতিকভাবে আগামী দিনে দলটির অবস্থান কী হবে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে তারা কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, সেটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।