শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কার্যক্রমে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব তথ্য জানান বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের কথাও জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর তথ্য দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার ব্যবস্থা থাকবে। পিস্তল, রিভলবার কিংবা শটগানের মতো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারীকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেলসহ অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দিলে অস্ত্রের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০ হাজার, ১৫ হাজার এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কাজ আরও জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত ইউনিটটি শিগগিরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে, যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব অস্ত্রকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব কার্যক্রমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি পুলিশকে আরও জনবান্ধব ও মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে অভিযান ও আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতার ওপর।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews