সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

আছিয়া হত্যা মামলায় হিটুর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাইকোর্টে

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাগুরায় শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে।
আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন আদালতে দেওয়া হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় অভিযুক্ত আরও তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পর নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষ থেকেও আপিল করা হয় বলে জানা গেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, হিটু শেখের স্বীকারোক্তি কোনো ধরনের নির্যাতন বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে—এমনটি আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসামি স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিতভাবে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণসহ অন্যান্য বিষয়ও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন বলে তিনি জানান।
মামলার ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে। জানা গেছে, মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশু আছিয়া। সেখানে শিশুটির ওপর ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও পরে ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে হিটু শেখকে প্রধান আসামি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে অন্য তিন আসামিকে নিম্ন আদালত খালাস দেন।
হাইকোর্টের রায়ের পর এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের মামলায় আদালতের দেওয়া রায় নিয়ে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মামলার চূড়ান্ত আইনগত পরিণতি নির্ধারণে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews