
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) জ্যেষ্ঠ নেতা সুদিভ্য কুমার সোনু মারা গেছেন। শনিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সুদিভ্য কুমার সোনু ঝাড়খণ্ডের গিরিডিহ বিধানসভা আসনের নির্বাচিত বিধায়ক ছিলেন। রাজ্য সরকারের পর্যটন, শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুববিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জেএমএমের নেতাকর্মী এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন মহলে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাতে সোনুর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে ঝাড়খণ্ড সরকারের পরিবহন, রাজস্ব ও ভূমি সংস্কারমন্ত্রী দীপক বিরুয়া জানিয়েছেন।
সোনুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে। দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক জানানো হয়। সেখানে তাঁকে দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং ঝাড়খণ্ড সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেএমএমের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সোনুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি ঝাড়খণ্ডের রাজনীতি ও রাজ্য সরকারের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সোনুকে নিজের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ও পরামর্শদাতা হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে জানা গেছে। ঝাড়খণ্ডের পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সোনুকে হেমন্ত সোরেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হতো বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে সোরেনের গ্রেপ্তারের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সোনুর ভূমিকার কথা আলোচনায় এসেছিল।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই কর্ণাটক সফর শেষে ঝাড়খণ্ডে ফিরেছিলেন সোনু। ওই সফরে তিনি ঝাড়খণ্ড সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বলে জানা গেছে। সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল কর্ণাটকের পর্যটন অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে দেখা।
সফরকালে কর্ণাটকের পর্যটন ও বন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয় বলেও জানা গেছে। ঝাড়খণ্ডের পর্যটনকেন্দ্র ও রিসোর্টগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার বিষয়ে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়েও প্রতিনিধি দলটি কাজ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৯ সালে গিরিডিহ বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুদিভ্য কুমার সোনু। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন বলে জানা গেছে।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, দলীয় নেতাকর্মী এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল।