
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেন চালুর পর আমানতকারীরা নিজেদের জমা অর্থ তুলতে পারছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে রাজশাহীর পাঁচটি শাখায় একযোগে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তি পর্যায়ে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। তবে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতার পর শাখাগুলোতে নগদ অর্থের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন পাঠানো এবং নিরাপদে নগদ ব্যবস্থাপনার মতো প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে কয়েকদিন সময় লাগে। এসব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর সোমবার থেকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহীর পাঁচটি শাখায় আবেদনকারী গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে তাদের আমানতের অর্থ দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শাখায় গড়ে প্রায় ২০০ জন গ্রাহক দিনে অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করছেন বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আবেদনকারীদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের জমা অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় অনেক আমানতকারীর মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এখন ব্যাংক থেকে টাকা হাতে পাওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কয়েকজন গ্রাহক বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজেদের জমানো অর্থ তুলতে পারায় তারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।
ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। গ্রাহকরা এখন প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আমানতের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন বলে তারা জানান।
এদিকে ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক যাতে একই ধরনের আর্থিক সংকটে না পড়ে, সে জন্য পরিচালনা ব্যবস্থা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমানতকারীদেরও কোনো ব্যাংকে অর্থ রাখার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, পরিচালন ব্যবস্থা ও সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে আমানত ফেরতের কার্যক্রম শুরু হলেও সব গ্রাহক একই সময়ে বা একই পদ্ধতিতে অর্থ পাবেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট শাখার প্রক্রিয়া ও আবেদনসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে বলে জানা গেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শাখায় যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গেলে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ব্যাংকের নিয়মিত লেনদেন ও অন্যান্য কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।