
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী আদুরী খাতুন। সাক্ষ্যে তিনি স্বামীর মরদেহ হাসপাতালে দেখতে পাওয়ার পাশাপাশি শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জে ১০ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদুরী খাতুনকে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে দেওয়া সাক্ষ্যে আদুরী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে নাশতা করে তার স্বামী বাসা থেকে বের হন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার দিকে যান বলে জানান আদুরী। এরপর স্বামীর সঙ্গে তার আর ফোনে যোগাযোগ হয়নি।
আদুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে তার দেবর স্বাধীন তাকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি স্বামীর মরদেহ দেখতে পান বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন। তার দাবি, হাসপাতালের বারান্দায় একটি ট্রলির ওপর বদিউজ্জামানের মরদেহ রাখা ছিল।
সাক্ষ্যে আরও বলা হয়, পরে কিছু লোক মরদেহ দ্রুত হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ওই পরিস্থিতিতে স্বজনরা মরদেহ বাসায় নিয়ে যান বলে জানান আদুরী। সেখানে গোসল ও জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে সেখানেও গোসল ও জানাজা সম্পন্ন করে দাফন করা হয়।
আদুরীর দাবি, স্বামীর মরদেহ গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান উপস্থিত লোকজন। দাফনের কয়েক দিন পর তিনি নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে স্বামীর মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আদুরী। তার অভিযোগ, শামীম ওসমান ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন বদিউজ্জামানকে মারধর করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমান, টিপু এবং আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে এসব বক্তব্য বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে দেওয়া একজন সাক্ষীর জবানবন্দির অংশ। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়ার বিষয়।
আদুরী আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের নামের তালিকা সংবলিত সরকারি গেজেটে তার স্বামী বদিউজ্জামানের নাম রয়েছে। সেখানে তার স্বামীর নাম ৪৯১ নম্বরে রয়েছে বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।
জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে স্বামী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচার দাবি করেন আদুরী খাতুন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সাক্ষীর জবানবন্দি এবং প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।