Eng
অপরাধ, জাতীয়, পাবনা, রাজশাহী, লিড নিউজ

নিখোঁজ স্কুলছাত্রী কলি হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি

প্রকাশিত: , ১৭ ২০২৬ | ০:৪০ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

পাবনায় ১০ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী কামরুন নাহার কলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার আগে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ একটি বস্তায় ভরে ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির বিষয়টি তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, কলি বিভিন্ন সময় মোস্তফার দোকানে কেনাকাটা করতে যেত। ওই সূত্রে শিশুটির কিছু ছবি মোস্তফার মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছিল বলে তদন্তে জানা যায়। ঘটনার দিন তাকে ঘরে নেওয়ার পর দুই ব্যক্তি শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালান এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর মরদেহ ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছিল। কলি নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয়দের খোঁজাখুঁজি ও বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতি নিয়ে চাপ তৈরি হয়। একই সময়ে ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মরদেহ সরানোর চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। এ সময় একটি কুকুর তাদের তাড়া করলে মরদেহটি পাশের একটি ঝোপে ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, মরদেহ যে ঘরে রাখা হয়েছিল, সেটি পরে পরিষ্কার করতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হয়। ঘটনার দিন ওই ঘরে ডিবি পুলিশ তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় জীবাণুনাশকের গন্ধ এবং মোস্তফার আচরণে সন্দেহ তৈরি হলে তাকে ও ইয়াছিনকে আটক করা হয়।
এরপর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। আটক দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া এলাকায় বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশু হত্যার মতো গুরুতর ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য আদালতের প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়ার পরই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।