Eng
চট্টগ্রাম, জাতীয়, নোয়াখালী, লিড নিউজ

বিষপানের পর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি, গৃহবধূর মৃত্যু

প্রকাশিত: , ২০ ২০২৬ | ০:২৮ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিষপানের পর সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শারমিন আক্তার শিবলী (৩৫) চার সন্তানের মা। শনিবার উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিলমুদ পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার শারমিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারমিনের সঙ্গে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরোধ চলছিল। তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। এ অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে থাকাকালে তিনি মানসিক চাপ ও পারিবারিক বিরোধের মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
নিহতের ভাই বিজয় দাবি করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক কষ্টের কারণেই শারমিন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তারা মনে করছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শারমিনের বাবা মো. সেলিমের অভিযোগ, মেয়ের বিষপানের খবর পাওয়ার পর তারা শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাকে ঘরের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখেন। তার দাবি, ওই সময়ও শারমিনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাধা দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিহতের মা বেবি আক্তারও দাবি করেন, দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে তার মেয়েকে হয়তো বাঁচানো যেত। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে নিহতের স্বামী জাকির হোসেন সেলিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি।
ঘটনাটিকে ঘিরে শারমিনের পরিবারের অভিযোগ ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।