Eng
আইন-আদালত, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

গুলশান প্লট মামলায় সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

প্রকাশিত: , ২১ ২০২৬ | ০:৪৬ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

গুলশান-২ আবাসিক এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে এদিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি মাহবুবুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুলশান-২ আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর-২৯ এবং রোড নম্বর-১০৪-এর ২৭ কাঠা জমি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পত্তিটি যথাযথভাবে অবমুক্ত না করেই বিভিন্ন রেকর্ডপত্র তৈরি ও প্রক্রিয়াগত অনুমোদনের মাধ্যমে সেটি হস্তান্তর এবং নামজারির সুযোগ তৈরি করা হয়।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করেন। এ ক্ষেত্রে জাল বা অসত্য রেকর্ডপত্র তৈরির পাশাপাশি সম্পত্তি হস্তান্তরের অনুমতি ও নামজারি অনুমোদনের বিষয়টিও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছারসহ আরও কয়েকজন এ মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন।
এর আগে গুলশানের ওই পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিয়ে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরবর্তী সময়ে তদন্তের ভিত্তিতে সালাম মুর্শেদীসহ মোট ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর চলতি বছরের ৬ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী ধাপে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার বাদীপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাতের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
মামলার অভিযোগে যে সম্পত্তি ও রেকর্ডপত্রের বিষয়ে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আদালতে সাক্ষ্য ও জেরা চলবে। আসামিপক্ষও তাদের আইনগত বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। সব পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মামলাটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রকাশিত মামলার তথ্য অনুযায়ী, সালাম মুর্শেদীকে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে মামলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।