Eng
জাতীয়, ঝিনাইদহ, লিড নিউজ

সোলার পাম্পে সেচ খরচ কমছে ঝিনাইদহে কৃষকের আয় বাড়ছে

প্রকাশিত: , ২২ ২০২৬ | ০:৩৫ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সেচনির্ভর কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্প ঝিনাইদহের কৃষকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। জেলার কয়েকটি উপজেলায় সোলার পাম্প স্থাপনের ফলে সেচ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অন্যের জমিতে সেচ দিয়ে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় তিনটি, কোটচাঁদপুরে একটি এবং মহেশপুরে ৩২টি পাম্প রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সৌরবিদ্যুৎনির্ভর এসব সেচ পাম্প একটি প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে।
সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কয়েকজন কৃষকের ভাষ্য, ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় সৌরশক্তির পাম্প পরিচালনায় ব্যয় তুলনামূলক কম। ফলে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও সেচ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকেরা সেচের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তার সোলার পাম্প স্থাপনে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প থেকে তিনি ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষীদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের সহায়তায় তিনি সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন। নিজের জমির পাশাপাশি বর্তমানে আরও প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
ফুলচাষি গফুর মিয়ার দাবি, সোলার পাম্প চালুর পর সেচের জন্য জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমেছে। নিজের জমির সেচের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্য জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি আয় করতে পারছেন তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল জানান, ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ১০০টির বেশি পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যবস্থায় এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতে পারে, সেখানে সোলার পাম্প ব্যবহারে ব্যয় প্রায় ২০০ টাকায় নেমে আসছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিতে সেচ ব্যয় কমাতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর জ্বালানিনির্ভরতার চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার সম্প্রসারণে পাম্পের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।