
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ চাল ও গমের মজুত না পাওয়ার ঘটনায় দুই খাদ্য কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও চলছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘিওর উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম থাকার কথা থাকলেও সরেজমিন পরিদর্শনে এসব খাদ্যশস্য পাওয়া যায়নি। এসব চাল ও গমের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ লাখ টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর গুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বিপুল কুমার এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা বেগমকে প্রথমে বদলি করা হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে খাদ্যশস্য কীভাবে গুদাম থেকে বের হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
২৫ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ঘিওরের ওই খাদ্যগুদামে সরেজমিন তদন্ত করেন। তখন নির্ধারিত মজুতের তুলনায় ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তারা গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা বেগমের দাবি, তিনি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে দুইবার গুদাম পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠাতেন। ১৫ আগস্টও তিনি গুদাম পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। পরে ২৫ আগস্টের তদন্তে খাদ্যশস্যের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তাকে প্রথমে অন্যত্র বদলি এবং পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ফারহানা বেগমের বক্তব্য অনুযায়ী, গুদাম কর্মকর্তাকে চালের মজুতের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তার বক্তব্যের একটি অংশে বলা হয়েছে, গুদাম কর্মকর্তা কাগজপত্রে মজুত দেখালেও বাস্তবে চাল বুঝে পাননি বলে দাবি করেছেন। তবে এসব বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি খাদ্যশস্য বাজারে বিক্রির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অনিয়মের কারণে সরকারের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে একাধিক কৃষককে বাদ দিয়ে একই ব্যক্তির কাছ থেকে বারবার ধান কেনার অভিযোগের পর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও গুদাম কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর ফলে অন্য কৃষকদের কম দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ধান বিক্রি করতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্যগুদামেও মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাল পাওয়া যায়। পাশাপাশি ছেঁড়া বস্তায় চাল সংরক্ষণ এবং গুদাম ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির অভিযোগে গুদাম কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, বস্তার সংকটের কারণে পুরোনো বস্তা ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে এবং বড় ধরনের অনিয়ম হয়নি।
অন্যদিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা খাদ্যগুদাম এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দুই খাদ্য কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গুদাম এলাকার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি খাদ্যগুদামে চাল, গম ও ধান সংগ্রহ এবং সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগগুলো এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তার দায় প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




