
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে তারা বিশৃঙ্খলা বা নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরির পথে যাবেন না। সরকারের কাছে দেওয়া পরামর্শ বা প্রস্তাব গ্রহণ না হলেও সংসদে ফাইল ছোড়া, হট্টগোল কিংবা ওয়াকআউটকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখছেন না তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা ও জনগণের সমস্যা তুলে ধরার জন্য তাদের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তেল সংকট নিয়েও সংসদের নির্ধারিত বিধিতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপনের প্রস্তাবে তারা সম্মতি দেন বলে জানান তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তেল সংকট নিয়ে আলোচনার পর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এতে দুই পক্ষের পাঁচজন করে মোট ১০ জন সদস্য রাখার কথা বলা হয়। শফিকুর রহমানের দাবি, এর ফলে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা কমে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগের বার্তা যায়।
তবে সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার পরও সবগুলো বিষয় আলোচনায় আনার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশুদের ওপর সহিংসতা এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মতো বিষয় সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিল্প খাতের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তার ভাষ্য, দেশের উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেলে এবং পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে অর্ডার কমতে থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। এর প্রভাব কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিল্প খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের দলে দেশ-বিদেশে কাজ করা অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে। সরকারের সঙ্গে এ দলকে যুক্ত করে সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের বাইরে থেকে বিরোধী দলের পক্ষে শিল্প খাতের সমস্যার সরাসরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই সরকার পরামর্শ গ্রহণ না করলেও সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে জনগণের কাছে গিয়ে বিষয়গুলো তুলে ধরাই বিরোধী দলের দায়িত্ব হওয়া উচিত।
এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করার কথা জানান তিনি। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকটের সময় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোকে তিনি সমর্থন করেন না বলে মন্তব্য করেন।
সরকারি প্লট ও করমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, সংসদ সদস্যদের কাজ ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জন নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব পালন করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রচারের ধরন নিয়েও আপত্তি জানান শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, সাক্ষাৎকারের বক্তব্যের অংশবিশেষ আলাদাভাবে তুলে ধরলে অনেক সময় বক্তব্যের মূল অর্থ বদলে যেতে পারে এবং এতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মতবিনিময় সভায় তিনি গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ঐক্য নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সেই ঐক্যে ফাটল তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন।




