Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

ধ্বংসস্তূপের পাশেই চলছে শিশুদের টিকাদান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত

প্রকাশিত: , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:০২ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভবন ভেঙে ফেলার পরও বন্ধ হয়নি শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম। মূল ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় কেন্দ্রের গেটের বাইরে একটি সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে বসে শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। সীমিত পরিসরে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাও দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক বন্ধ রয়েছে। ভেতরে ভবন ভাঙার পর পড়ে থাকা ইট, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। এর বাইরে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের টিকা দিচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজন মা-বাবা সন্তানদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দেখতে আশপাশের বাসিন্দাদেরও সেখানে ভিড় করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশ পরা বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে কেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন ভেঙে ফেলেন। পরে এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, অর্থ, আসবাবসহ বিভিন্ন সামগ্রী কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
হামলার পর কেন্দ্রের এলাকায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ লেখা সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে এলাকার নারী ও শিশুদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। এর মধ্যে বিনামূল্যে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনার মতো কার্যক্রম রয়েছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী তার দুই বছর বয়সী ছেলে জায়ান চৌধুরীকে হামের টিকা দিতে সেখানে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, তার নিজের শৈশবেও এই কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়া হয়েছিল। পরে তার বড় ছেলেকেও এখান থেকেই টিকা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক, টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইপিআইয়ের টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার কারণে ওই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় নারীরা চিকিৎসার জন্য এলে চিকিৎসকের পরামর্শ দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের গেটে দেওয়া সিলগালা খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সেটি খুলে দেওয়া হলে কেন্দ্রের ভেতরে আবার স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাইরে অস্থায়ীভাবে বসে কতদিন এভাবে সেবা চালানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও শিশুদের টিকাদান চালু রাখার এই উদ্যোগ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কীভাবে স্বাভাবিক হবে, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান উদ্বেগ।