
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং বেসরকারি খাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন। তাঁর মতে, ব্যবসার পরিবেশ সহজ হলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও মুনাফার সুযোগ বাড়তে পারে। এর ফলে কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন সরাসরি নির্ধারণ করা সরকারের দায়িত্ব নয়। তবে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার বিষয়ে উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় বেড়ে গেলে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। এর সঙ্গে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মীদের বেতন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ড. ফাহমিদার মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, অবকাঠামোর উন্নয়ন, ঘুষ ও দুর্নীতি কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ বেসরকারি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে ব্যবসার মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তখন কর্মীদের পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে দেশের আয়বৈষম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমাজের একটি অংশের আয় বাড়লেও অন্য একটি অংশ সেই হারে আয় বাড়াতে পারছে না। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আয়বৈষম্য আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর আয় বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রির (ওএমএস) কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন ড. ফাহমিদা। তাঁর মতে, শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠী নয়, নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েও সহায়তার আওতা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এ ছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য জ্বালানিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানো, গণপরিবহন ব্যবহারের ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন সহায়তার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের ওপর থাকা অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।




