
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
নওগাঁয় বাস শ্রমিক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার পথে বাস চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন বাস শ্রমিকরা। এতে নওগাঁ থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
এর আগে বাসচালক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন বাস চলাচল বন্ধ ছিল। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মঙ্গলবার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তবে এর একদিন পরই নতুন করে বিরোধ দেখা দেওয়ায় আবার ধর্মঘটের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবি, মঙ্গলবার বদলগাছী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস চলাচলের সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের সঙ্গে বাসচালকের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে বাসচালককে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বুধবার সকাল ৭টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এতে রুবেল হোসেন গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওই ঘটনার পর বাস শ্রমিকরা বিচার এবং মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন। প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর সাময়িকভাবে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল।
বাস মালিক ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ে শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, এসব বিধিনিষেধ পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। তাদের দাবি, আঞ্চলিক মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে যানবাহনের মধ্যে বিরোধ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতির সমাধান না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা।
ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকেই বাধ্য হয়ে সিএনজি, অটোরিকশা বা অন্যান্য বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সময়ও বেশি লাগছে বলে অভিযোগ তাদের।
রাজশাহীগামী এক যাত্রী জানান, চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস বন্ধ থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। বিকল্প যানবাহনে যেতে বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে আদালতে হাজিরার জন্য পোরশা থেকে নওগাঁ শহরে আসা এক যাত্রী জানান, বাস না চলায় তাকে একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হয়েছে।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো লিখিতভাবে না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো লিখিতভাবে দেওয়া হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকার পেছনে শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ও রয়েছে। তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা চলছে। দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।




