Eng
আন্তর্জাতিক, জাতীয়, লিড নিউজ, সিলেট, হবিগঞ্জ

সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগ, দেশে ফেরার আকুতি রেহেনার

প্রকাশিত: , ৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৩২ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

হবিগঞ্জের মাধবপুরের এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নির্যাতন, বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। রেহেনা খাতুন নামে ওই নারী বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দার আলহাদা এলাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে রয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভাব-অনটনের কারণে বিদেশে কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে রেহেনা সৌদি আরবে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।
রেহেনা খাতুন মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। গত শনিবার তিনি গোপনে নিজের অবস্থানের একটি ভিডিও এবং লোকেশন পরিবারের কাছে ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই ভিডিওবার্তায় তিনি দেশে ফিরে আসার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ভিডিওবার্তায় রেহেনা নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান। তার দাবি, সৌদি আরবে তিনি নানা ধরনের চাপ ও কষ্টের মধ্যে রয়েছেন এবং বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না।
রেহেনার পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মোকন্দপুরের বামুটিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের নাম উল্লেখ করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু খরচ দিলে রেহেনাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরব থেকে কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনতে খরচের বিষয়টি রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে রেহেনাকে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, ওই নারী নির্যাতনের শিকার নন। দেশে ফিরতে হলে সংশ্লিষ্ট খরচ বহন করতে হবে বলেও তিনি জানান।
রেহেনার স্বামী আলী আহমদ স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়েও খোঁজ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেহেনার পরিবারের করা আবেদনটি বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর তাকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।
রেহেনার পরিবারের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে নির্যাতনের অভিযোগ, বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং দেশে ফেরাতে অর্থ দাবির বিষয়গুলো সরকারি অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।