
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকা নীলফামারীর মো. সোহেল রানা অবশেষে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে নিয়োগ নিয়ে তার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ৪৯তম বিসিএসে আগে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সোহেল রানার নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আবু হোসেন একজন কৃষক।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল। চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম ওই প্রজ্ঞাপনে পাওয়া যায়নি। তাদের একজন ছিলেন সোহেল রানা।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে ইতিহাসে প্রথম অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও গেজেটে নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে তার সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
সোহেল রানার শিক্ষাজীবনও ছিল কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯২ অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে ২০২০ সালে স্নাতক পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৫৪ এবং ২০২১ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৫৬ অর্জন করেন। পরে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
তবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রথম দফার নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে তার নাম না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা। অবশেষে নতুন প্রজ্ঞাপনে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের সুযোগ পেলেন।
নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোহেল রানা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তার মনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এ জন্য তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতের জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন।
কৃষক পরিবারের সন্তান সোহেল রানার এই সাফল্যে তার পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে নাম আসায় তার বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের পথও এখন পরিষ্কার হয়েছে।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে পরবর্তী প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। সোহেল রানার ক্ষেত্রে ইতিহাস বিষয়ে সর্বোচ্চ মেধাক্রম অর্জনের পরও যে অপেক্ষা তৈরি হয়েছিল, নতুন গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তার অবসান হয়েছে।




