
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের একটি অংশকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাজহারুল ইসলাম নামের ওই সাবেক ছাত্রদল নেতা সাংবাদিকদের কাজ ও ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি কিছু সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে ওই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
মাজহারুল ইসলাম নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নরসিংদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি সব সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি। তার ভাষ্য, সব সাংবাদিক সৎ বা ভালো নন এবং তিনি নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিকের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।
তার পোস্টে ব্যবহৃত একটি শব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, একটি সংবাদ বা ভিডিওর অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার সময় তার সামনে আসে। তিনি দাবি করেন, পুরো সংবাদটি পড়া হয়নি এবং ভিডিওটিও সম্পূর্ণ দেখা হয়নি। সামনে আসা অংশের ভিত্তিতেই তিনি মন্তব্যটি করেছেন বলে জানান।
এদিকে, সাংবাদিকদের নিয়ে এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজকে অবমাননা করে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তার মতে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও পেশাদার সাংবাদিকদের ভূমিকা এক করে দেখার কারণে এ ধরনের শব্দচয়ন হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ ওই বক্তব্যের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপনের কথা বলছেন।
সাংবাদিকতা নিয়ে মতবিরোধ বা সমালোচনা থাকলে তা নির্দিষ্ট প্রতিবেদন, তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে প্রকাশ করাই আলোচনাকে গঠনমূলক রাখে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা পেশাজীবী গোষ্ঠী সম্পর্কে সাধারণীকরণমূলক মন্তব্য বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে। তবে মাজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে সব সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিকের প্রসঙ্গেই তিনি কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টকে ঘিরে নরসিংদীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।




