Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

হরমুজে জাহাজডুবি, আইফোন কুড়াতে সাগরে ছুটছেন ইরানিরা

প্রকাশিত: , ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১:৫৪ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইরানের হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রের পানিতে ভেসে থাকা আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে নৌকা নিয়ে ছুটছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছোট নৌকা থেকে শুরু করে উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে বহু মানুষকে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে যেতে দেখা গেছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া পণ্য সংগ্রহের এই দৃশ্য স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে। গত ১৪ অক্টোবর জিএফএস প্রাইড নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজটিতে আগুন লাগার পর সেটি সমুদ্রে তলিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে। জাহাজটিতে থাকা বিপুলসংখ্যক কনটেইনারের কিছু পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও দামি সামগ্রী থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো সংগ্রহ করতে স্থানীয়দের একটি অংশ সমুদ্রে যেতে শুরু করেন।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে আংশিক ডুবে থাকা কনটেইনারের চারপাশে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা চলাচল করছে। নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা ঢেউয়ের মধ্যে ভেসে থাকা বাক্স ও অন্যান্য সামগ্রী টেনে তোলার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে ছোট একটি নৌকাকে বিশাল আকারের একটি শিপিং কনটেইনার টেনে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। তবে উদ্ধার করা পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ কিংবা সেগুলোর কতটা অক্ষত রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা দলবদ্ধভাবে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছেন। সেখানে আইফোন ও সুগন্ধিসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তবে সমুদ্রে ভেসে থাকা সব কনটেইনারে কী ধরনের পণ্য ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
জাহাজটির নিবন্ধনকারী দেশ সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার পর জাহাজটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিককে অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে নাবিকদের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে জাহাজডুবির ফলে পণ্য ও কনটেইনারের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী দাবি করেছে, জাহাজটি অনুমোদনহীন ও বিপজ্জনক পথে চলাচল করছিল। একপর্যায়ে সেটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে বিস্ফোরণের শিকার হয় এবং পরে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে আড়াই হাজারের বেশি কনটেইনার ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে জাহাজের ওপর হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনী স্থানীয় জেলেদের পানিতে ভাসমান কনটেইনারের আশপাশে সতর্কভাবে চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সমুদ্রে ভেসে থাকা বড় কনটেইনার, সম্ভাব্য বিস্ফোরক ঝুঁকি এবং প্রতিকূল ঢেউয়ের কারণে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
দুর্ঘটনাস্থলে পণ্য সংগ্রহের দৃশ্য সামনে এলেও এসব সামগ্রী সংগ্রহের আইনগত অধিকার, উদ্ধার কার্যক্রমের অবস্থা এবং সমুদ্র থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে আগ্রহের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্ধার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।