
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান তুলে ধরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, পাকিস্তানি শাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে এই রেজিমেন্টের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে না তুললে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাহসী ভূমিকা দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিনিয়র টাইগার্সের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পুনর্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রেজিমেন্টটির সাবেক সদস্য, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে স্পিকার বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনী পরবর্তী সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘটনাপ্রবাহে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রেজিমেন্টের সদস্যদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রেজিমেন্টটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বীরত্বসূচক পুরস্কার অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর লড়াই ছিল না; এটি ছিল গোটা জাতির সংগ্রাম। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যাঁরা সেই সময়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি, তাঁদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গভীরতা উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের প্রতিনিয়ত জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁরা সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁদের এই ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
স্পিকারের বক্তব্যে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিদ্রোহের বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম দিকের সশস্ত্র প্রতিরোধে এই রেজিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ের ঘটনাবলির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি সেই সময়ের সামরিক সদস্যদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে নিজের সামরিক জীবনের স্মৃতিও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে কাটানো সময় এবং মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের কঠিন দিনগুলোতে সাহস, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ কীভাবে সৈনিকদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল, তা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানের বক্তব্যপর্ব শেষে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীটির ভূমিকা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে সিনিয়র টাইগার্সের পক্ষ থেকে স্পিকারকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
পুনর্মিলনীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা রেজিমেন্টটির অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। আয়োজনটির মধ্য দিয়ে সাবেক সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও স্মৃতিচারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে রেজিমেন্টটির ঐতিহাসিক ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে।




